শ্রী লক্ষ্মী চালীসা | Lakshmi Chalisa in Bengali Lyrics & Meaning | PDF

শ্রী লক্ষ্মী চালিসা: সমৃদ্ধি এবং সম্পদের জন্য একটি ঐশ্বরিক পাঠ

‘শ্রী লক্ষ্মী চালিসা’ হিন্দু ধর্মে সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর উপাসনা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ বলে বিবেচিত হয়। এই চালিসা বিশেষ করে ধনতেরাস এবং দীপাবলির সময়, পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার পাঠ করা হয়। এটি পাঠ করলে ভক্তরা ধন, সমৃদ্ধি ও সুখ লাভ করেন।

Lakshmi Chalisa Bengali Lyrics

শ্রী লক্ষ্মী চালিসা (বাংলা অর্থ)

দোহা

মাতু লক্ষ্মী করি কৃপা, করো হৃদয় মে বাস ।
মনোকামনা সিদ্ধ করি, পুরবহু মেরি আস ॥

অর্থ: হে মা লক্ষ্মী, আমার উপর কৃপা করুন এবং আমার হৃদয়ে বাস করুন। আমার সকল শুভ ইচ্ছা পূর্ণ করুন এবং আমার আশা সফল করুন।

সোরঠা

যহি মোর আরদাস, হাত জোড় বিনতি করুঁ ।
সব বিধি করৌ সুবাস, জয় জননি জগদম্বিকা ॥

অর্থ: হে জগদম্বা, আমি হাত জোড় করে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। আমার জীবনকে সুখ, শান্তি ও মঙ্গলময় করুন।

সিন্ধু সুতা ম্যায় সুমিরৌ তোহি ।
জ্ঞান বুদ্ধি বিদ্যা দো মোহি ॥

তুম সমান নহিঁ কোই উপকারী ।
সব বিধি পুরবহু আস হামারি ॥

জয় জয় জগত জননি জগদম্বা ।
সবকি তুম হি হো অবলম্বা ॥

তুম হি হো সব ঘট ঘট বাসী ।
বিনতি যহি হামারি খাসী ॥

অর্থ: হে সমুদ্রকন্যা মা লক্ষ্মী, আমি আপনার স্মরণ করি। আমাকে জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করুন। আপনার মতো উপকারী আর কেউ নেই। আপনি সমগ্র বিশ্বের জননী এবং সকলের আশ্রয়। আপনি প্রতিটি প্রাণীর হৃদয়ে বাস করেন। আমার প্রার্থনা গ্রহণ করুন।

জগজননি জয় সিন্ধু কুমারী ।
দীনন কি তুম হো হিতকারী ॥

বিনবৌ নিত্য তুমহিঁ মহারানী ।
কৃপা করৌ জগ জননি ভবানী ॥

কেহি বিধি স্তুতি করৌ তিহারী ।
সুধি লীজৈ অপরাধ বিসারী ॥

কৃপা দৃষ্টি চিতবভো মম ওরী ।
জগজননি বিনতি সুন মোরী ॥

অর্থ: হে জগতের জননী, আপনি দুঃখী ও অসহায় মানুষের কল্যাণ করেন। আমি প্রতিদিন আপনার কাছে প্রার্থনা করি। আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে আমার উপর কৃপাদৃষ্টি রাখুন এবং আমার আবেদন শুনুন।

জ্ঞান বুদ্ধি জয় সুখ কি দাতা ।
সঙ্কট হরো হামারি মাতা ॥

ক্ষীরসিন্ধু যখন বিষ্ণু মথায়ো ।
চৌদহ রত্ন সিন্ধু মে পায়ো ॥

চৌদহ রত্ন মে তুম সুখরাসী ।
সেবা কিয়ো প্রভু বনি দাসী ॥

যব যব জন্ম যেখানে প্রভু লীন্হা ।
রূপ বদল তহাঁ সেবা কীন্হা ॥

অর্থ: হে মা, আপনি জ্ঞান, বুদ্ধি ও সুখের দাত্রী। সমুদ্র মন্থনের সময় আপনি চৌদ্দ রত্নের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রত্ন হিসেবে আবির্ভূত হন। ভগবান বিষ্ণু যখনই অবতার গ্রহণ করেছেন, তখনই আপনি বিভিন্ন রূপে তাঁর সেবা করেছেন।

স্বয়ং বিষ্ণু যখন নর তনু ধারা ।
লীন্হেউ অবধপুরী অবতারা ॥

তব তুম প্রগট জনকপুর মাহীঁ ।
সেবা কিয়ো হৃদয় পুলকাহীঁ ॥

অপনায়া তোহি অন্তর্যামী ।
বিশ্ব বিদিত ত্রিভুবন কি স্বামী ॥

তুম সম প্রবল শক্তি নহিঁ আনি ।
কহঁ লৌ মহিমা কহৌঁ বখানি ॥

অর্থ: যখন ভগবান বিষ্ণু শ্রীরাম রূপে অবতার গ্রহণ করেন, তখন আপনি সীতা রূপে আবির্ভূত হন। তিন জগতে আপনার মহিমা প্রসিদ্ধ এবং আপনার সমতুল্য শক্তি আর কেউ নেই।

মন ক্রম বচন করৈ সেবকাই ।
মন ইচ্ছিত বাঞ্ছিত ফল পাই ॥

তজি ছল কপট ঔর চতুরাই ।
পূজহিঁ বিবিধ ভাঁতি মন লাই ॥

ঔর হাল ম্যায় কহৌঁ বুঝাই ।
যো যহ পাঠ করৈ মন লাই ॥

তাকো কোই কষ্ট নোই ।
মন ইচ্ছিত পাবৈ ফল সোই ॥

অর্থ: যে ব্যক্তি মন, কর্ম ও বাক্যে ভক্তিভরে সেবা করে, সে তার মনের ইচ্ছা পূরণের আশীর্বাদ লাভ করে। ভক্তিভরে চালিসা পাঠ করলে জীবনের কষ্ট দূর হয়।

ত্রাহি ত্রাহি জয় দুঃখ নিবারিণী ।
ত্রিবিধ তাপ ভব বন্ধন হারিণী ॥

যো চালিসা পড়ৈ পড়াবৈ ।
ধ্যান লাগাকর শুনৈ শুনাবৈ ॥

তাকৌ কোই ন রোগ সতাবৈ ।
পুত্র আদি ধন সম্পত্তি পাবৈ ॥

পুত্রহীন অরু সম্পত্তি হীনা ।
অন্ধ বধির কোঢ়ী অতি দীনা ॥

অর্থ: হে দুঃখ নাশিনী মা, আপনি সকল কষ্ট দূর করেন। যে ব্যক্তি ভক্তিভরে এই চালিসা পাঠ করে বা শোনে, সে স্বাস্থ্য, সন্তান, ধন ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ লাভ করে।

শেষ দোহা

ত্রাহি ত্রাহি দুঃখ হারিণী, হরো বেগি সব ত্রাস ।
জয়তি জয়তি জয় লক্ষ্মী, করো শত্রু কো নাশ ॥

অর্থ: হে মা লক্ষ্মী, আপনি সকল দুঃখ দূর করেন। আমার সকল ভয় ও কষ্ট দ্রুত দূর করুন এবং শত্রু ও অশুভ শক্তির বিনাশ করুন।

রামদাস ধরি ধ্যান নিত, বিনয় করত কর জোর ।
মাতু লক্ষ্মী দাস পর, করহু দয়া কি কোর ॥

অর্থ: ভক্ত রামদাস প্রতিদিন মা লক্ষ্মীর ধ্যান করে প্রার্থনা করেন, যেন মা তাঁর সকল ভক্তের উপর সর্বদা কৃপা বর্ষণ করেন।

শ্রী লক্ষ্মী চালিসার গুরুত্ব

লক্ষ্মী চালিসা পাঠ করলে শুধু আর্থিক সুবিধাই পাওয়া যায় না এটি আপনার বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি এবং সুখ ও শান্তি নিয়ে আসে। এই আবৃত্তির মাধ্যমে, ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর প্রতি তাদের আনুগত্য এবং উত্সর্জন প্রকাশ করে, যার ফলে দেবী লক্ষ্মী খুশি হন এবং তাদের উপর আশীর্বাদ বর্ষণ করেন।

লক্ষ্মী চালিসা কিভাবে পাঠ করবেন

স্থানের প্রস্তুতি: চালিসা পাঠ করার জন্য, একটি শান্ত এবং পবিত্র স্থান চয়ন করুন যেখানে আপনি বাধা ছাড়াই উপাসনা করতে পারেন।
পূজার উপকরণ: পদ্মফুল, কুমকুম, ধূপকাঠি, প্রদীপ এবং মিষ্টি প্রসাদ হিসেবে অপরিহার্য।
পূজার শুরু: দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালান এবং তারপর লক্ষ্মী চালিসা পাঠ শুরু করুন।
ধ্যান ও মনন: আবৃত্তির সময় পূর্ণ ভক্তি সহকারে দেবী লক্ষ্মীর ঐশ্বরিক রূপের ধ্যান করুন।
আরতি ও প্রসাদ: চালিসা পাঠের পর দেবী লক্ষ্মীর আরতি করুন এবং শেষে প্রসাদ বিতরণ করুন।

লক্ষ্মী চালিসার উপকারিতা

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নিয়মিত চালিসা পাঠ করলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৃদ্ধি ঘটে।
মানসিক শান্তি: এই চালিশা আপনাকে মানসিক শান্তি প্রদান করে এবং ইতিবাচক চিন্তার প্রচার করে।
ঘরে সুখ-শান্তি: এই গ্রন্থ পাঠ করলে ঘরে সুখ, শান্তি ও আনন্দ আসে।

‘শ্রী লক্ষ্মী চালিসা’ পাঠ আপনাকে কেবল সম্পদ এবং সমৃদ্ধিই দেয় না, এটি আপনার জীবনে আধ্যাত্মিক শক্তি এবং শান্তিও নিয়ে আসে। এই পাঠটি আপনার প্রতিদিনের পূজায় অন্তর্ভুক্ত করে, আপনি দেবী লক্ষ্মীর অপার আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারেন।

লক্ষ্মী চালিসা, লক্ষ্মী পূজা পদ্ধতি, সম্পদ লাভের উপায়, শ্রী লক্ষ্মী চালিসার উপকারিতা, ধর্মীয় পাঠ, দেবী লক্ষ্মীর পূজা, হিন্দু ধর্মীয় রীতি, শ্রী লক্ষ্মী পূজা

FAQ Schema Questions & Answers (বাংলা)

১. শ্রী লক্ষ্মী চালীসা কী?
শ্রী লক্ষ্মী চালীসা হলো মা লক্ষ্মীর স্তবগান, যেখানে দেবীর গুণ, মহিমা ও কৃপা বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ভক্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভক্তিমূলক পাঠ।

২. শ্রী লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করলে কী উপকার হয়?
বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত পাঠ করলে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয়, সংসারে সুখ-শান্তি আসে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

৩. লক্ষ্মী চালীসা পাঠের জন্য কোন দিন সবচেয়ে শুভ?
শুক্রবার, দীপাবলি, কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এবং অন্যান্য শুভ তিথিতে লক্ষ্মী চালীসা পাঠ বিশেষভাবে ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।

৪. লক্ষ্মী চালীসা কতবার পাঠ করা উচিত?
ভক্তরা সাধারণত প্রতিদিন একবার পাঠ করেন। বিশেষ কামনা পূরণের জন্য ১১, ২১ বা ৪০ দিন ধারাবাহিকভাবে পাঠ করার প্রথাও রয়েছে।

৫. লক্ষ্মী চালীসা কি বাংলায় পাঠ করা যায়?
হ্যাঁ, বাংলায় লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করা যায়। নিজের মাতৃভাষায় ভক্তিভরে পাঠ করলেও সমান আধ্যাত্মিক ফল পাওয়া যায়।

৬. লক্ষ্মী চালীসা পাঠের আগে কী করতে হয়?
স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করা, মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবির সামনে প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে পাঠ শুরু করা উত্তম।

৭. ছাত্রছাত্রীরা কি লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করতে পারে?
অবশ্যই। মা লক্ষ্মী শুধু ধনের দেবী নন, তিনি সৌভাগ্য, জ্ঞান ও কল্যাণেরও প্রতীক। ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত পাঠ করতে পারে।

৮. লক্ষ্মী চালীসা পাঠের সময় কোন মন্ত্র জপ করা যায়?
‘ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ’ মন্ত্রটি লক্ষ্মী চালীসার সঙ্গে জপ করলে ভক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

৯. বাড়িতে লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করলে কি ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মী চালীসা পাঠের মাধ্যমে বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ, শান্তি ও শুভ শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

১০. লক্ষ্মী চালীসা ও লক্ষ্মী পূজার মধ্যে কী সম্পর্ক?
লক্ষ্মী পূজার সময় লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এটি পূজাকে আরও ভক্তিময় ও সম্পূর্ণ করে তোলে।

Laxmi Chalisa in Different Languages

Read Shri Laxmi Chalisa lyrics in Hindi, English and other Indian languages with devotional Paath and simple reading support.

Download Laxmi Chalisa Bengali PDF

 

Visited 2,314 times, 1 visit(s) today

Similar Posts